চট্টগ্রামে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ১২ দিনের কর্মবিরতি চলছে

Spread the love

অনলাইন ডেস্ক: জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদবি পরিবর্তনের দাবিতে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করছে বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস)। রোববার (১৫ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ১৫ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং জেলার সবগুলো সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মচারীরা এতে অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) এর চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি স্বপন কুমার দাশ জাগো নিউজকে জানান, চট্টগ্রামের মোট ২৬২ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী গতকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রায় ১২০ জন কর্মচারী কাজে যোগ না দিয়ে কার্যালয় প্রাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। বিভিন্ন উপজেলা ও ভূমি অফিসগুলোতেও দাবির সমর্থনে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা কাজে যোগ দেননি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সচিবালয়ের নিয়মে সারাদেশের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধির দাবি করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। ২০১১ সালে পদ-পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে তা আটকা পরে আছে।’

আন্দোলন কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে স্বপন কুমার দাশ বলেন, ‘৩০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফর। ৮ ও ৯ নভেম্বর ডিসির মাধ্যমে স্ব-স্ব অফিস প্রধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিতকরণ কর্মসূচি আমরা পালন করেছি। গত ১৫ থেকে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত হাজিরা খাতায় সই করে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং অফিস চত্বরে ব্যানারসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে ৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হবে। ওই সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে।’

জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত ১১ থেকে ১৬ (দ্বিতীয় ও তৃতীয়) গ্রেডের কর্মচারীর পদ-পদবি সচিবালয়ের আদলে পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের। একইসঙ্গে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি (বাকাসস) ব্যানারে ২০০১ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন ভুক্তভোগীরা।

এই সময়ের মধ্যে একাধিকবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির মাধ্যমে আশ্বাস দিলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাদের মতে, পদ-পদবি ও বেতন স্কেল সমন্বয় সংক্রান্ত প্রস্তাবের সার সংক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ১৯ জুন অনুমোদন দেন। এরপর তা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সুপারিশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

একই বছরের ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসিদের মুক্ত আলোচনায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে ২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ২০১৪ সালের ১৭ জুন চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০১৮ সালে ২৩ এপ্রিল প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

একই বছরে ডিসি সম্মেলনের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন গ্রেড অনুযায়ী প্রতিটি পদের নাম পরিবর্তন, অথবা মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদেরকে সচিবালয়ের কর্মচারীদের ন্যায় পদোন্নতির বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যবিবরণীতে স্বল্পমেয়াদী ১ নম্বর ক্রমিকে ও মধ্যমেয়াদী ১ নম্বর ক্রমিকে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।